বানিয়াচংয়ে ধান কাটার শ্রমিক সংকট, বৃষ্টিতে ১৪ শত ৫০ হেক্টর জমি প্লাবিত
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৯-০৪-২০২৬ ০৩:৪১:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-০৪-২০২৬ ০৩:৪১:৪৬ অপরাহ্ন
কৃষকরা সোনালী ফসল
প্রতিনিধি হবিগঞ্জ।। হবিগঞ্জের
বানিয়াচংয়ে ধান কাটার শ্রমিক সংকট চরমে। একদিকে জমিতে পাকা ধান, অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা সোনালী ফসল গোয়ালে তুলতে পারছেন না।
এ ছাড়া ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি আসায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। ফলে অন্তত ১০/১২ বছরের মধ্যে এত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে পড়েননি কৃষকরা। এতে করে এ বছর উৎপাদন ব্যয় তুলতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছেন কৃষকরা।
উপজেলা সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অলক চন্দ্র জানান , উপজেলায় এ বছর ৩৩ হাজার ৭শত ৫ হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে।
উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১লাখ ৪৪ হাজার ২শত ৫৮ মেট্টিক টন। আজ বুধবারে (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত ১২ হাজার ২শত ১০ হেক্টর জমি কর্তন হয়েছে।
ইতোমধ্যে ২ দিনের বৃষ্টিতে ১৪ শত ৫০ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। তবে সরজমিন ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,দেড় মাসের অধিক সময় ধরে বৃষ্টি হওয়ায় জলাবদ্ধতায় কাঁচা ধান প্রায়
২ হাজার হেক্টর আগেই তলিয়ে গেছে। নোয়া গাও গ্রামের কৃষক মনির মিয়া বলেন, নোয়াগাও হাওরের কাঁচা ধান আগেই তলিয়ে গেছে। যার পরিমান ৫ হাজার একর। উপজেলার ১,২,৩,৫,৬,১৩,১৪,১৫ ও ১২ নং ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশী ধান দুদিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে।
একদিকে নেই শ্রমিক, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে চোখের সামনেই পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, উপজেলায় অন্যান্য বছর বাহির থেকে অধিক পরিমাণে ধান কাটার শ্রমিক আসলেও এ বছর ২ হাজার ৬ শত শ্রমিক আসছে।
এ ক্ষেত্রে দেশীয় শ্রমিক অনেক কম হওয়ায় শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা যাচ্ছে না।
কৃষক আবুল আহমদ জানান, এ বছর ধান কাটার শ্রমিক অনেক কম। বৃষ্টির কারণে মেশিন জমিতে যাচ্ছে না। বজ্রপাতসহ বিভিন্ন কারণে ধান কাটার শ্রমিকরা পেশা বদল করায় কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন।
এতে করে ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে। সবদিক মিলিয়ে ভাবছি বাপ-দাদার পেশা থেকে সরে যাবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথী জানান, শ্রমিক সংকটের ব্যাপারে ডিসি স্যারের কাছে প্রয়োজনীয় চাহিদা দেওয়া হয়েছে। আশা করি শ্রমিক পেলেই সংকট কেটে যাবে।
মোতাব্বির হোসেন
প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স